শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী
রাজশাহীতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবিতে কৃষকরা স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বছর বাঘা উপজেলায় প্রায় ১,৮৪০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এ বছর উচ্চমূল্যে বীজ কিনে জমিতে পেঁয়াজ বপন করেছেন। এর ফলে প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এতে প্রতি বিঘায় চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এখন পেঁয়াজ তোলার মৌসুম চলছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার কারণে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। আমদানি বন্ধ করা হলে কৃষকরা এ বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর গ্রামের চাষি জাকির হোসেন, পলাশী ফতেপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, লিটন আলী, বজলুর রহমান, পাকুড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম, সাবাজুল প্রামাণিক, সাইফুল ইসলাম, ফজলুল হক এবং কলিগ্রামের মহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
চাষি জাকির হোসেন বলেন, তিনি এ বছর ৪০ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছেন। বর্তমান বাজার দরে পেঁয়াজ বিক্রি করলে তার পথে বসার অবস্থা হবে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছর আর কেউ পেঁয়াজ চাষ করতে চাইবে না। তিনি এবং অন্যান্য চাষিদের দাবি, ভরা মৌসুমে যদি সরকার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে, তাহলে তারা ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, পেঁয়াজ চাষিরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, এই সময়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। চাষিদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।